শহর প্রতিনিধি->>
ফেনীতে শীতের প্রকোপে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ ও রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালী প্রদাহজনিত রোগ, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর ভর্তির সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে। শীত মৌসুমের শুরুতেই হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার সরেজমিনে হাসপতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ও শিশু ওয়ার্ডে বেডের বিপরীতে রোগীর সংখ্যা অধিক। এক মাসের কম বয়সী বেশ কিছু নবজাতকের নাকে নেবুলাইজার দিয়ে শ্বাসকষ্ট দূর করার চেষ্টা করছেন মা। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি। তাই মেঝেতে বিছানা বিছিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছে চিকিৎসক ও সেবিকারা।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ফুলগাজীর শ্রীপুর থেকে এসেছেন। তার দুই দিন ধরে ডায়রিয়া হচ্ছে। সিট না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু তাহের পাটোয়ারী জানান, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে অন্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত দুই, তিন দিনে শিশু ওয়ার্ডে ৪২ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩২ জন ও বয়স্ক রোগী ভর্তি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন। হাসপাতালে রোগী ভর্তির পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর চিকিৎসার জন্য যথাযথ খেয়াল রেখে চিকিৎসক ও সেবিকারা রোগীদের যত্ন সহকারে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ফেনীর সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তিনজন চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে একজন মেডিকেল অফিসারকে দিয়ে আন্ত:বিভাগ ও বহি:বিভাগে শিশু রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও দাগনভূঞা উপজেলার আরেকজন মেডিকেল অফিসারকে ডেপুটেশনে সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদেরকে অবশ্যই সব সময় গরম কাপড় পড়িয়ে রাখতে হবে, যাতে কোন অবস্থাতেই ঠাণ্ডা না লাগে। যদি শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যায় তাহলে অবশ্যই নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Sharing is caring!