সোনাগাজী সংবাদদাতা->>

সোনাগাজীর বগাদানা ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এক প্রবাসী পরিবারের লক্ষাধিক টাকার নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গত ১ডিসেম্বর ভোর ৬টায় বগাদানা ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. মোস্তফা, মো. ইব্রাহীম এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নূর আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পুলিশ জানায়, মৃত আলী আকবরের ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. মোস্তফা, মো. ইব্রাহীম ও বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি নূর আলমের মালিকীয় দখলীয় ৩০ শতক জমির আন্দরে বসত বাড়ির দক্ষিণ সীমানা ঘেষে জবরদখলের চেষ্টা চালায় একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দিন ভোর ৬টার দিকে রুস্তম আলীর ছেলে সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম মানিক প্রকাশ কালা মানিক, দেলোয়ার হোসেন, আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আবদুর রউপ মাস্টার, রশিদ মিস্ত্রি, মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে কামাল উদ্দিন, ফজলুল হক, নূরুল হক, খায়েজ আহম্মদ, তার ছেলে জয়নাল আবেদীন ও হকন মিস্ত্রি সহ ১৫/২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময় সন্ত্রাসীরা এক লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় ১৫/২০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলে। প্রবাসী পরিবারের নির্মাণাধীন একটি ঘর ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। ঘরটির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
এ ঘটনায় প্রবাসী মো. মোস্তফার মা হাসিনা খাতুন বাদি হয়ে ৯জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রবাসী পরিবারটি সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ভয় পেয়ে নির্মাণ শ্রমিকেরা নির্মাণাধীন ঘরের কাজ করছেনা।
সোনাগাজী মডেল থানার এসআই আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আইন কানুনের তোয়াক্কা করেনা। পুলিশ গেলে তারা পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসী কালা মানিকের বিরুদ্ধ অন্তত ২০টি সহ সকল আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসীদের সপক্ষে মালিকানার কোন কাগজপত্র না থাকলেও তারা ঘায়ের জোরে প্রবাসী পরিবারটিকে জিন্মি করে রেখেছে।
হাসিনা খাতুন আরো জানান, রাস্তা থেকে প্রায় ৩ শত গজ দূরে কালা মানিকদের একটি পারিবারিক কবরস্থান আছে। ওই কবরস্থানের যাতায়াতের জন্য তাদের নিজের কোন জামি নেই। ওই কবরস্থানে হাসিনা খাতুনের স্বামী মারা গেলে সেখানে কবর দিতে চাইলে মানিকের পিতা ও স্বজনরা ওই স্থানে কবর দিতে অনুমতি দেয়নি। এখন উল্টো হাসিনা খাতুনের জামির উপর দিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের জন্য মানিক তার সন্ত্রাসী বাহিনীদেরকে নিয়ে জোরপূর্বক নির্বিচারে গাছ কেটে হামলা চালিয়েছে।

Sharing is caring!