সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজীর সোলাইমান ভূঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠ দান করেন হিন্দু শিক্ষকরা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান। ওই বিদ্যালয়ে মুসলমান শিক্ষক না থাকায় নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে আগ্রহী হচ্ছেননা এলাকাবাসী। বাড়ি বাড়ি গিয়েও সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের রাজি করাতে পারছেননা শিক্ষক ও এসএমসি সদস্যরা। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে হিন্দু শিক্ষকরা ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠ দান করে যাচ্ছেন। স্কুল ম্যানজিং কমিটির (এসএমসি) পক্ষ থেকে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরচসাহাভিকারী গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী আলহাজ্ব সোলাইমান ভূঞা ওই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০০৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৩৩ শতক জমি দান করেন তিনি। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান করেন। ২০১৬ সাল থেকে শিক্ষকরা সরকারি বেতন ভাতা পেতে থাকেন। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় ৫কক্ষ বিশিষ্ট অধুনিক পাকা ভবন। ওই বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন ৩জন শিক্ষক। কর্মরত শিক্ষকরা হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দাস, সহকারি শিক্ষিকা লিমা রানী মজুমদার ও পুতুল রানী দাস। বর্তমানে প্রথম শ্রেনি থেকে ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত ৯১জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। তম্মধ্যে মাত্র ২জন শিক্ষার্থী রয়েছেন হিন্দু। বাকী সব শিক্ষার্থীরাই হচ্ছে মুসলমান। পুরো এলাকাটি মুসলামান অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দাসও স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ে মুসলমান শিক্ষক না থাকায় হিন্দু শিক্ষকরা ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন শিক্ষক পদায়ন হলে হয়তোবা এই সমস্যা কেটে যাবে। তবে মুসলমান শিক্ষক পদায়নের ব্যাপারে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাস্টার সাহাব উদ্দিন ওই বিদ্যালয়ে মুসলমান শিক্ষক না থাকার ব্যাপারে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কর্মরত তিনজন শিক্ষকই হিন্দু হওয়ায় ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদানের কোন শিক্ষক নেই। এনিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনতি বিলম্বে ওই বিদ্যালয়ে একজন মুসলমান প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করে হলেও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব সোলাইমান ভূঞা আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞান মনস্ক শিক্ষায় গ্রামের মানুষদের শিক্ষিত করে তুলতে বড় আশা করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছি। সরকারিভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণ করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানের জাতীয়করণ করা হয়নি। জাতীয়করণের পূর্বে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টেলেন্টপুলে বৃত্তি পেতো। এখন সাধারনভাবে পাস করতেও কষ্ট হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন তলানীতে গিয়ে পৌঁছেছে। সবকয়টি মুসলসান শিক্ষার্থীর অধ্যয়নের বিদ্যালয়ে সব গুলো শিক্ষকই হিন্দু। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমি নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। আমার চারপাশের এলাকার সব মানুষ ধর্মভীরু মুসলমান। তারা আধূনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলাম শিক্ষা অর্জন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাসেরও অধিক সময় সব হিন্দু শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। অনতি বিলম্বে তিনি মুসলমান প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করছি আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন মুসলমান শিক্ষক পদায়ন করা হবে।

Sharing is caring!