ঢাকা অফিস->>

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ৪ আসামি মৃত্যুদন্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। বহিস্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ ছাড়াও অপর তিন আসামিরা হলেন- নুরুদ্দিন, জাবেদ হোসাইন ও উম্মে সুলতানা পপি।

ওই চার দন্ডিত আসামির পক্ষে আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন।

আইনজীবী ফয়সাল জানান, এ চার আসামি তাদের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বর রোববার হাইকোর্টের যে কোনো বেঞ্চে মামলাটি উপস্থাপন করা হবে।

গত ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে। আগামী ৩১ জানুয়ারী মধ্যে এ মামলার পেপারবুক তৈরি হবে বলে সম্প্রতি ঢাকার এক অনুষ্ঠানে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গত ২৪ অক্টোবর আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর নুসরাত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- সোনাগাজী মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. রুহুল আমিন, ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে শাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, নুসরাতের সহপাঠী কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি; আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম ও মহি উদ্দিন ওরফে শাকিল।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নিজকক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকাপরা পাঁচজন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়।

Sharing is caring!