আদালত প্রতিবেদক->>

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পেপারবুক আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হলি আর্টিজান মামলার রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার পেপারবুক আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে। আমরা আগামী বছর এই মামলার শুনানি হাইকোর্টে শেষ করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।
ডেথ রেফারেন্সের ক্ষেত্রে পেপারবুক তৈরির দায়িত্ব সরকারের জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সেজন্য আমরা বলতে পারি কবে পেপারবুক তৈরি হবে। তবে বিচারিককাজে আমি কোনো ইন্টারফেয়ার করছি না।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্স নথি হাইকোর্টে পাঠান সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত। আসামিরা ফেনী কারাগারে থাকাবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল করে। গত ১২ নভেম্বর আসামিদের ফেনী কারাগার থেকে কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। রায়ে এই মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- সোনাগাজী মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. রুহুল আমিন, ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে শাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, নুসরাতের সহপাঠী কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি; আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মো. শামীম ও মহি উদ্দিন ওরফে শাকিল।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নিজকক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকাপরা পাঁচজন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়।

Sharing is caring!