বিশেষ প্রতিনিধি->>

পরশুরাম বক্সমাহমুদের দক্ষিন মোহাম্মদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার সন্ধায় আবু বক্কর দম্পতির একমাত্র শিশু সন্তান তরিকুলকে নৃশংস ভাবে খুন করে তারই আপন বড়মা ( জেঠিমা) আর্জিনা আক্তার ।
জেলা গোয়েন্দা সংস্থার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানায়,প্রতিহিংসার কারনে আর্জিনা আক্তার তরিকুলকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দিন ঘরের উঠানে একা পেয়ে তরিকুলকে মুখ চেপে ধরে রান্না ঘর সংলগ্ন টিউব ওয়েল এর পাশে নিয়ে টিউব ওয়েলের হাতল দিয়ে তরিকুলের মাথায় আঘাত করে। পরে রান্না ঘরের ফাঁক দিয়ে ছুঁড়ে মারে তরিকুলকে।

সন্ধার পরে ঘরের বাইরে গিয়ে তরিকুলের নিথর দেহ অদুরে ধান ক্ষেতের ভেতর ফেলে আসে।
ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে এ ভাবেই বর্ণনা দেয় আর্জিনা আক্তার।
দীর্ঘ দিন ধরে মাওলানা আবুবক্করের পরিবারের সাথে মাওলানা আবুল বশর ( আর্জিনা আক্তারের স্বামী) এর ঝগড়া – বিবাদ চলে আসছে। ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবু বক্কর নিজ হাতে গরম কাপড় পড়িয়ে ছেলে তরিকুলকে ঘরের উঠানে রেখে মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যায়। নামাজ শেষে বাড়ীতে এসে দেখে তরিকুলকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা। বাড়ীর আশে পাশে সব যায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আর্জিনা আক্তারের স্বামী আবুল বশরের ঘরের পিছনে ধান ক্ষেতের আইলের উপর তরিকুলের মৃত দেহ পাওয়া যায়।
জীবিত মনে করে ছেলেকে নিয়ে ছুটে যায় পরশুরাম হাসপাতালে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন তরিকুল বেঁচে নেই।ঐদিন পরশুরাম থানায় তরিকুলের হত্যা মামলার পর ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান পিপিএম নিহত তরিকুলের লাশের সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরন করে। শুক্রবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ দাফন করা হয়। শনিবার সকাল ১১ টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ তরিকুলের জেঠা ও জেঠিকে আটক করে।

Sharing is caring!