সোনাগাজী প্রতিনিধি->>
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে স্মার্টফোন নিতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি। আজ সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলনকক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অক্টোবর মাসের ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অজিত দেব।

ইউএনও অজিত দেব বলেন, সভায় উপজেলার গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা করা হচ্ছিল। দেখা গেছে, অন্য অপরাধের চেয়ে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ও নারী নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে। এমন সময় সভার একজন সদস্য প্রস্তাব দেন, সাইবার অপরাধ রোধে অন্তত মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা যেন স্মার্টফোন নিয়ে বিদ্যালয়ে না আসে, বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত। পরে ওই সিদ্ধান্তে অন্যরা একমত পোষণ করেন। এরপর বিষয়টি দেখভাল করার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

সভায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কোনো সালিস বিচার করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করাসহ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনি সহায়তা নেওয়া যাবে।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের তথ্যউপাত্ত দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে স্কুলের সমাবেশে ও মসজিদগুলোতে খুতবার সময় আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া মাদকের মামলার আসামিরা যেন সহজে জামিন না পান, সেই দিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় সরকারি -বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাসহ সচেতনতামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং সামাজিক অপরাধ দমনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সোনাগাজী মডেল থানায় বিভিন্ন অপরাধে ৪৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ডাকাতি, ৫টি চুরি, ১টি খুন, ১টি অস্ত্র আইন, ১টি ধর্ষণ, ৯টি মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আইনে ৩টিসহ মোট ৪৮টি মামলা হয়েছে।

সভায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জোবেদা নাহার, সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ নাসির উদ্দীন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরএমও আরমান বিন আবদুল্লাহ ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!