বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় যৌতুকের দাবীতে এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জহির ইসলামকে আটক করে ছেড়ে দিলো পুলিশ।শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার মহামায়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে দিনভর চলে নানা তদবির।একপর্যায় থানায় বসে শালিশ বৈঠক করে রাতে ছেড়ে দেয়া হয় জহিরকে।এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীর পরিবারের। সে একই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গরীবুল্লাহ শাহ হোসেন বাদশাহ এর শেলক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের একজন মাঠকর্মী।

ভুক্তভোগীর মা রেহেনা বেগম মামলার অভিযোগে জানান,উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর সতর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে জহির ইসলামের সাথে এক বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে দেয়।কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জহির বিভিন্ন অজুহাতে তার মেয়ের উপর চালাতো অমানবিক নির্যাতন। এ নিয়ে একাধিকবার ঘরোয়া ভাবে মিমাংসা হলেও কিছু মানতে চায় না জামাই জহিরসহ বাবা,মা। এরইমধ্যেই গৃহবধূটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।তাই মেয়ের শুশুর পক্ষের লোকজন অনুমতি না ছাড়া বাচ্চা কেন নিয়েছে বলে মেয়ের উপর আরো নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক জানান অধিক নির্যাতনের ফলে পেটেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে এবং ডি এন জি করে মৃত বাচ্চা প্রসব করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলে কিছুদিন যেতেই ফের নতুন অজুহাত ধরে চাকরীস্থল থেকে বিদেশে ট্রেনিং যেতে টাকা লাগবে।এই টাকার জন্য আবারো মেয়ের জামাই জহির ইসলাম,শশুর জয়নাল আবেদিন সহ শাশড়ি মিলে মেয়েকে বেধড়ক মারধর করলে তারা থানায় অভিযোগ দেয়। পরে পুলিশ অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার গভীর রাতে জহির ইসলামকে অাটক করে।

কিন্তু তাকে আটকের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বৈঠকে মাধ্যমে সমাধানের জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ দিতে থাকে মেয়ের পরিবারকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে থানায় আসেন মহামায়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গরীবুল্লাহশাহ,একই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনউদ্দিন মাস্টার,ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আলম মজুমদার, ছাগলনাইয়া পৌরসভার কমিশনার হাবিবুর রহমান,শিমুল চৌধুরী,উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি দিদার সহ একাধিক ব্যাক্তি শালিশে বসে।
এসময় বৈঠকে আসামীকে ছেড়ে দেয়াসহ আগামী ২৩ নভেম্বর পূনরায় বসার সিদ্ধান্ত হয়।সে মোতাবেক রাতেই আসামীকে ছাড়িয়ে নেয়ে যায় তাদের লোকজন।

এব্যাপারে ছাগলনাইয়া থানার পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,মেয়েটির পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ দিলে শুক্রবার রাতে জহির ইসলাম নামে একজন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করি। পরে শনিবার রাতে বৈঠকে সিদ্ধান্তক্রমে তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর পূনরায় বসার সিদ্ধান্ত হয়।

Sharing is caring!