আদালত প্রতিবেদক->>

ফেনীতে ‘বিয়ে পাগল’ তানজিলা হায়দারের দুই বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারিক আদালত-৩) এ.এস.এম এমরান দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় গৃহবধু তানজিলা হায়দারকে দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্ত তানজিলা ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর শর্শদি গ্রামের রকিবুল হায়দারের মেয়ে।
আইনজীবী সাহাব উদ্দিন আহাম্মেদ জানায়, ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট তানজিলা হায়দার নিজেকে কুমারী পরিচয়ে ফেনী পৌরসভার ১৭ নাম্বার ওয়ার্ডের রামপুর এলাকার হাফেজ উকিল বাড়ীর জিয়াউল হক বাবলুর সাথে কাজী অফিসে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রকৃতপক্ষে তানজিলা ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বর সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের কাজী অফিসে আবদল্লাহ আল মামুনের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ওই বিয়ের সময়ও সে নিজেকে কুমারী পরিচয় দিয়েছিলো। এছাড়াও তানজিলা হায়দার নিজেকে কুমারি দাবি করে আরো দুটি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
বিষয়টি জানতে পেয়ে দ্বিতীয় স্বামী জিয়াউল হক বাবলুর মা ছালেহা বেগম ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে পিটিশন (পিটিশন নং-২/১৭/২০১৭) মামলা দায়ের করে। মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারকাজ শেষে আদালত তানজিলা হায়দারকে দোষী সব্যস্ত করে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারিক আদালত-৩) এ.এস.এম এমরান দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। রায় ঘোষনার সময় আসামী তানজিলা হায়দার পলাতক ছিলেন।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী জাহিদ হোসেন খসরু, ফজলুল হক ছোটন ও আলাউদ্দিন ভুঁইয়া। আসামী তানজিলার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাহাব উদ্দিন আহাম্মেদ।

Sharing is caring!