পরশুরাম প্রতিনিধি->>
পরশুরামে আওয়ামী লীগ নেতার পিটুনি খেয়ে ‘অপমানে’ আত্মহত্যা করেছে কৃষক আবু আহম্মদ (৫২)। সোমবার রাতে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের কাউতলী গ্রামে এঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মদ কৃষক আবু আহম্মদকে মারধর ও হুমকির মুখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজনদের দাবী, আবু আহম্মদকে হত্যার পর গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, সরল প্রকৃতির কৃষক আবু আহম্মদকে সোমবার সকালে জমিতে কীটনাশক ছিটানোর জন্য বলেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মদ। ভুলক্রমে আবু আহম্মদ অন্যের জমিতে তা ছিটিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকালে আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ তাকে বটতলী বাজারে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্য মারধর ও গালমন্দ করে। একপর্যায়ে সে পালিয়ে আসলে তার স্ত্রীকে দফায় দফায় ফোন করে হুমকি দেয় ফিরোজ।
আবু আহম্মদের স্ত্রী রহিমা আক্তার বলেন, ফিরোজ তাকে অন্তত ১৫ বার ফোন দেয়। আবুকে যেখানে পাওয়া যাবে তাকে ধরে নিয়ে মারধর করবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সে ঘরে না ফেরায় বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজি করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে শোরচিৎকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ মধ্যরাতে লাশ উদ্ধার করে ময়ানতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় স্ত্রী বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে নিহতের ছেলে জাফর অভিযোগ করেন, ‘ফিরোজ ও তার লোকজন আমার বাবাকে মেরে লাশ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে হয়। আমি বাবার হত্যাকরীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফিরোজকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

Sharing is caring!