আদালত প্রতিবেদক->>
দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর জায়লস্কর গ্রামের মালেক মাষ্টার বাড়িতে গৃহবধু আরজিনা আক্তার হত্যা মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর জায়লস্কর গ্রামের সৈয়দ আহম্মদের ছেলে একরামুল হক ছুট্টুর সাথে ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি বারাহিপুর গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে আরজিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন খবর জানতে পেরে উভয়ের মাঝে দাম্পত্য কলহ বেঁধে যায়। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে নিয়োমিত ঝগড়া হতো। একপর্যায়ে আরজিনাকে মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন করা হতো।
নির্যাতনের এক পর্যায়ে ওই বছরের ২৭ আগস্ট রাতের কোন একসময় আরজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কাঁথাদিয়ে মুড়িয়ে পালিয়ে যায় শশুড় বাড়ির লোকজন। পুলিশ পরদিন দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় আরজিনার মামা মীর হোসেন দুলাল বাদী হয়ে স্বামী, শাশুড়ী মাফিয়া খাতুন, ভাসুর হোসেন আহম্মদ, জামাল উদ্দিন ও জা শাহানা আক্তারকে আসামী করে দাগনভূঞা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শাশুড়ী মাফিয়া খাতুন ও ভাসুর জামাল উদ্দিন গ্রেফতার রয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদ হোসেন খসরু জানান, শশুর পরিবারের ৩ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়া এবং স্বামী একরামুল হক ছুট্টু পরকিয়ায় আসক্ত হয়ে অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রী আরজিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহম্মদ জানান, উভয়পক্ষের শুনানী শেষে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। একইসাথে বুধবার সাক্ষ্যগ্রহনের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

Sharing is caring!