বিশেষ প্রতিনিধি->>
ছাগলনাইয়ার বৃদ্ধ আবদুস সোবাহানকে ২০ বছর পর খুঁজে পেয়েছে পরিবার। ‘পারি ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনের আন্তরিক উদ্যোগে প্রায় ২০ বছর পর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পেয়েছেন বৃদ্ধ আবদুস সোবাহান। এর আগেও সংগঠনের সদস্যরা অনেক পথভোলা মানুষকে পৌঁছে দিয়েছে আপনালয়ে।
জানা যায়, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার আবদুস সোবাহান প্রায় ২০ বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে তার নিজ বাড়ি থেকে বের যান। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন বাড়িতে লজিং থেকে, হাইস্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষকতাসহ মসজিদে ইমামতিও করে জীবন চালিয়েছেন। একসময় সব ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানে ভবঘুরে জীবন কাটাতে থাকেন। সেখানে খেয়ে না খেয়ে জীবন চলে তার। একসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন রাস্তায়!

এরপর মাসুম বিল্লাহ, সানজিদা আফরোজ নওরিনসহ বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা দেয়ার পর তারাও তার পরিবারের সন্ধান করে ব্যর্থ হন। তারপর তারা মিল্টন সমর্দারের পরিচালিত চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যান আবদুস সোবাহানকে।মিল্টন হলেন ওই আশ্রমের অসহায় মানুষের শেষ ভরসা।

অন্যদিকে বাবাকে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন ছেলে মেয়েরা। আবদুস সোবাহান যখন বাড়ি ছাড়েন তখন তার বড় ছেলের বয়স মাত্র ১০। বাকিরা তখন আরও ছোট। এখন বড় ছেলের বয়স ৩০। দেশের বাইরে থাকেন তিনি। আরেক ছেলের বয়স ২৫। তিনিও প্রবাসী। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সব মিলে সাজানো সংসার। স্ত্রীও প্রিয় মানুষটির খোঁজে প্রহর গুনছিলেন। স্বজনরা তাকে সারাদেশে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলেন।

অপরদিকে মাঝে মধ্যেই পারি ফাউন্ডেশনের সভাপতি বৃদ্ধদের নিয়ে ওই বৃদ্ধাশ্রমে সময় কাটান। সেখানে বৃদ্ধ সোবাহানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারেন তার বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায়। তিনি তার বিস্তারিত তথ্য নেন এবং তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আশ্বস্ত করেন। এরপর তিনি তার (সোবহান) পরিচয় জানতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চেষ্টা শুরু করেন। এরপর সাইফুল আযম নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। যোগাযোগ করা হয় তার পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের লোকজন এ খবর জেনে যেন চাঁদ হাতে পায়।

গত ৩০ অক্টোবর সোবাহানের সঙ্গে দেখা হয় তার পরিবারের। দীর্ঘ ২০ বছর পর স্ত্রী পেল তার জীবন সঙ্গীকে, স্বামী পেল তার সহধর্মিণীকে। আর সন্তানরা পেল তাদের বাবাকে। আর পারি ফাউন্ডেশনের ঘরে যোগ হলো নতুন একটি সাফল্য। একই সঙ্গে একজন ঘরহারা মানুষকে ঘরে ফেরোনোর প্রশান্তি।

Sharing is caring!