আদালত প্রতিবেদক->>

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহার রাফি হত্যা মামলার রায়ের ২১৯ পৃষ্ঠার মুলকপি সোমবার হস্তান্তর করা হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালত থেকে রায়ের মুলকপি সোমাবার রাতে জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে রায়ের মুলকপি আসামীদের স্বজনদের কাছে প্রদান করা হয়েছে। রায়ের কপি নিয়ে আসামীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে আসামিপক্ষের একাধিক আইনজীবী। গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামির মৃত্যুদন্ডদেশ দেন আদালত।

ফেনী কারাগারের জেলার দিদারুল আলম জানান, সোমবার রাতে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালত থেকে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের মুলকপি জেল সুপার বরাবরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আসামীপক্ষের আইনজীবী আহাসান কবির বেঙ্গল বলেন, আসামীপক্ষের স্বজনরা জাতীয় পরিচয়পত্র জমা রেখে আদালত থেকে রায়ের মুলকপি সংগ্রহ করেছে। রায়ের মুলকপি দিয়ে আসামীদের স্বজরা উচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সাথে পরমর্শ করে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে। উচ্চ আদালতে আপিলের ক্ষেত্রে জেলার আইনজীবীদের ভূমিকা নেই।

গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির সকলকে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার বহিস্কৃত অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), পৌর কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে সম্পা ওরফে চম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (সদ্য সাবেক) ও মাদ্রাসার সাবেক সহ সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

Sharing is caring!