আদালত প্রতিবেদক->>
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি’র যৌনহয়রানি (শ্লীলতহানি) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় পিছিয়েছে। রোববার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদ’র আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারিত থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পিছিয়ে নতুন সময় নির্ধারণ করেছে আদালত।
আগামী ১৩ নভেম্বর মামলার একমাত্র আসামী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (বহিস্কৃত) সিরাজ উদ-দৌলার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহমেদ। আসামী সিরাজ উদ-দৌলা ইতোমধ্যে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্ধি রয়েছে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, গত ৩ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে এ মামলার চার্জশিট জমা দেয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ফেনীর পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহ আলম। পরদিন গত ৪ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানীর মামলায় চাজর্শীটের উপর শুনানী শেষে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্থানান্তর করে। গত ৯ জুলাই ওই আদালতে মামলাটির চার্জশীট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে চার্জগঠনের জন্য গত ১৭ জুলাই ধায্য করেছিলো। ওই দিন চার্জগঠনের জন্য নির্ধারিত দিন থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করেছিলো। পরে ৫ আগস্ট চার্জগঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৭ অক্টোবর সময় নির্ধারণ করেছিলো আদালত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ফেনীর পরিদর্শক শাহ আলম জানান, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। ওইদিন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলাটি পিবিআই ফেনীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। পিবিআই দায়িত্ব গ্রহণের ৯৬ দিনের মাথায় গত ৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২৭১ পৃষ্ঠার ডকেটসহ ১০ পৃষ্ঠার দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে (চার্জশীট) একমাত্র আসামী করা হয় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (বহিস্কৃত) সিরাজ উদ-দৌলা। দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে ডাক্তার ও পুলিশসহ মোট ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (বহিস্কৃত) সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার পর মামলাটি প্রত্যাহারে জন্য নুসরাত জাহান রাফিকে চাপ দেওয়া হয়। নুসরাত মামলা প্রত্যহারে অপরোগতা প্রকাশ করলে গত ৬ এপ্রিল আলীম পরীক্ষার হলের ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ এপ্রিল মারা যায় নুসরাত। ওই ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় ১৬ জন আসামী সকলকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। গত ২৪ অক্টোবর রায় দেওয়া হয়।

Sharing is caring!