নিজস্ব প্রতিবেদক->>

ফেনীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবিতে জেলায় ৫৫৮ টি বিদ্যালয়ের প্রায় তিন হাজার শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করছে। এতে জেলার প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পড়লেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে শিক্ষকরা। এসময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখেন শিক্ষকরা। ১৬ অক্টোবর এসব বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। পরদিন ১৭ অক্টোবর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। এর পরও দাবি আদায় না হলে ২৩ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি পালন শুরু করবেন তারা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠনের সম্মিলিত মোর্চা ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ গত ৬ অক্টোবর এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘আমাদের (প্রাথমিক শিক্ষকদের) পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বাধ্য হয়ে আন্দোলনে যেতে হয়েছে।’

ঐক্য পরিষদের ফেনী জেলা প্রধান সমন্বয়কারী শেখ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, বর্তমানে একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন, একজন সহকারী শিক্ষক তার এক গ্রেড নিচে চাকরি জীবন শেষ করেন। এটা সহকারী শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সরকারের অন্য বিভাগে বেতন তিন থেকে চার ধাপ ওপরে। ক্ষেত্রবিশেষে সহকারী শিক্ষকদের তুলনায় কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অন্য বিভাগের চাকরিজীবীরা বেশি বেতন পান। শিক্ষকরা সম্মানজনক বেতন স্কেল প্রত্যাশা করেন যা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সোমবার থেকে সারাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ অভিভাবকরা। তারা বলেন, আগামী ১৭ নভেম্বর শুরু হচ্ছে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা। পরীক্ষার আর এক মাস মাত্র বাকি। এ মুহূর্তে শিক্ষকরা লাগাতার কর্মবিরতিতে গেলে শিশু শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তারা দ্রুত সরকারকে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈষম্য নিরসন করতে গত ২৯ জুলাই এই শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৮ সেপ্টেম্বর তা নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতন পান। তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর সহকারী শিক্ষকরা পান ১৪তম গ্রেডে বেতন। তাদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষকরা জানান, আগে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য ছিল এক গ্রেড। প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সমান করায় এখন সে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে তিন গ্রেডে। এটি নিঃসন্দেহে বৈষম্য। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রস্তাবে এই বৈষম্য কমানোর প্রচেষ্টা ছিল।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোয় তিন লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। বেতন নিয়ে অসন্তুষ্ট সহকারী শিক্ষকরাও।

জানা গেছে, বর্তমানে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা পান। ১৬ বছর চাকরির পর প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতাসহ ব্যবধান হবে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

Sharing is caring!