শহর প্রতিনিধি->>
ফেনীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসব। মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী শহরসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমাগুলো নিয়ে আসা হয় কালিপাল দশমী ঘাটে। এখানে বিসর্জনের পূর্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী।
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজিব খগেশ দত্তের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম জাকারিয়া, ফেনী পৌর মেয়র হাজী আলাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতেয়ার রহমান, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন সুলতানা, ফেনী মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন, পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত।

ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুশেন চন্দ্র শীলের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, সোনাগাজী পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, ফেনী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহীদ খোন্দকার, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ডিবি পুলিশের ওসি রঞ্জিত বড়ুয়া, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আবদুল ওয়াজেদ, মো. মনিরুজ্জামান, পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক পূজারী। আলোচনা শেষে একে একে প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।
এর আগে অসুর বধ ও সব অকল্যাণ দূর করে দেবী কৈলাসে ফিরে যাওয়া উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে বিদায়ের সুর। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিসর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিকেলে শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমে হিন্দি চলচ্চিত্র ও দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেন।

বিসর্জনের বাজনায় আবাহনের সুর মিশিয়ে আগামীর অপেক্ষায় ভক্তরা মা দুর্গাকে বিদায় জানালেন- ‘আবার এসো মা’ বলে। আগেরদিন সোমবার রাতভর পূজামন্ডপগুলোতে ছিল ভক্তদের উপচেপড়া ভীড়।
গত শুক্রবার ছষ্ঠী পুজার মধ্যে দিয়ে ফেনীর ছয় উপজেলার ১৪০টি পূজামণ্ডপে দূর্গাপুজা শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে সনাতন ধর্মালম্বী ছাড়াও বিপুল দর্শনার্থীর পদভারে মুখরিত হয় পূজামণ্ডপগুলো।

Sharing is caring!