পরশুরাম প্রতিনিধি->>
ক্যাসিনোকান্ডে সমালোচিত গ্রেফতার ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটকে নির্দোষ দাবি করে অবিলম্বে তার মুক্তি চেয়েছেন বোন ফারহানা চৌধুরী। অপরদিকে ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্ডের বস খ্যাত হলেও নিজ এলাকায় মসজিদ মাদ্রাসা তৈরি সহ অসহায় মানুষের পাশে সবসময় দাড়াতেন সম্রাট ।তাই গ্রেপ্তারের পরই তার মুক্তির দাবীতে নিজ এলাকা পরশুরামে মিছিল সহ বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনীর পরশুরামের মির্জানগড় ইউণিয়নের সাহেব নগর চৌধুরী বাড়ীর মৃত ফয়েজ আহম্মদের মেজে ছেলে ঈসমাইল হোসেন সম্রাট। তার বাবা ছিলেন রাউজকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সম্রাট থাকেন রাজধানরি মহাখালীর বাসায়। তার গ্রামের বাড়ি পরশুরামে হলেও সেখানে ছোট বোন ও মা ছাড়া থাকেন না কেউ। সম্প্রতি ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পর সম্রাট সহ অনুসারীরা গা ঢাকা দেয়। এরপর রবিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, যুবলীগ নেতা সম্রাট ক্যাসিনো ও মাদকের ব্যবসায় রাতারাতি কোটিপতি হলেও তার পৈতৃক বাড়ী তে একটি দোতলা ঘর ছাড়া নেই কোন সম্পত্তি।রাজধানীতে সে ক্যাডার ভিত্তিক ত্রাস হিসেবে পরিচিতি পেলেও নিজ এলাকায় তিনি একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি।

রবিবার রাতে পরশুরামের পূর্বসাহেবনগরের বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে সম্রাটের বোন ফারহানা চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যমে সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জুয়া খেলা সম্রাটের নেশা, এটি তিনি মিথ্যাচার করেছেন’। তিনি আরো বলেন, ‘সম্রাট অসুস্থ ও হার্টের রোগী। তার ওপেনহার্ট সার্জারি হয়েছে। সম্রাট খারাপ কোন কাজে জড়াতে পারেনা সে। তাই তাকে অযথা হয়রানী না করতে ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তির দাবি করছেন’।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানের পরপরই “ক্যাসিনো সম্রাট” হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের নাম উঠে আসে। জানা যায়, ৯০ দশকে রাজনীতিতে জড়ান সম্রাট। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সে। সবশেষ কাউন্সিলে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হন। দক্ষিণ যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা মিল্কীর হত্যাকাণ্ডের পর সম্রাটের আর পিছু তাকাতে হয়নি। মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল, বাড্ডা এলাকায় অপরাধ জগতের একক আধিপত্য তৈরি করেন সম্রাট। তাই ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে রাজধানীর জুয়াড়িদের কাছে বেশ পরিচিত নাম ছিলো তার। রাজনিতির পাশাপাশি তার নেশা ও পেশা ছিলো জুয়া খেলা।

Sharing is caring!