শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে সৌদি রিয়েল আছে বলে প্রতারণাকালে গণপিটুনি দিয়ে তিন ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জনতা। শুক্রবার সকালে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে এঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- বরগুনার বামনা থানার আমতলী গ্রামের ফজলকের ছেলে আব্দুস সালাম(৪১), গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া গ্রামের রাঙ্গুমিয়ার ছেলে নয়ন শেখ (৪১) ও একই উপজেলা আইখদিয়া গ্রামের রুস্তম খানের ছেলে উজ্জ্বল খান(৩০)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে এই তিন প্রতারক আরো কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মসজিদের ইমাম আবু সালেহ নোমানের কাছে আসে। এ সময় তারা একটি গামছা মোড়ানো বস্তু দেখিয়ে তাকে এখানে এক লাখ বিশ হাজার সৌদি রিয়াল আছে বলে। বিষয়টি তার সন্দেহ হলে স্থানীয়দের ডাক দিলে তারা এসে প্রতারকদেরকে ধরে গামছা মোড়ানো বস্তুটি খুলে তাতে খবরের কাগজ দেখতে পান। পরে জনতা তিনজকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করলেও পালিয়ে যায় গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর উপজেলার শুক্কুর আলী (৫০), বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ইউনুস মল্লিক (৪০) ও গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর উপজেলার বিল্লাল (৩৫)।

জেনারেল হাসপাতাল মসজিদের ইমাম আবু সালেহ নোমান জানান, গত কয়েকদিন পূর্বে প্রতারকরা তার কাছে ১০০ সৌদি রিয়েল দিয়ে যান। তিনি ২৫০০ টাকায় বিক্রি করে তাদেরকে দিলে তারা তাকে ২০০ টাকা বকশিশ প্রদান করে। এরপরই প্রতারকরা তাকে জানায়, তাদের কাছে এরকম আরো এক লাখ বিশ হাজার সৌদি রিয়াল রয়েছে। এই রিয়াল গুলো ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করবে বলে নোমানের সাথে দফারফা হয়। তারই প্রেক্ষিতে তারা শুক্রবার সকালে নোমানের কাছে গামছা মোড়ানো পেপার সহকারে এসে তাকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা দিতে বলে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, এঘটনায় আবু সালেহ নোমান (৪৮) বাদী হয়ে আটক তিনজনসহ প্রতারক চক্রের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতারক সালামের নামে ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় ৪টি ও নয়ন শেখের নামে ২টি প্রতারণার থানায় মামলা রয়েছে। পলাতক অপর আসামীদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।