দাগনভূঞা প্রতিনিধি->>

দাগনভূঞায় জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য জাহানারা বেগম নামের বাদীকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হত্যার হুমকি দিয়েছে মামলার আসামিরা।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উদরাজপুর গ্রামের করিম বক্স পাটোয়ারী বাড়ির নুরুল আলম ও বাদিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৬ আগষ্ট সকালে কোনও কারণ ছাড়া আসামিরা বাদিনীর বসত ঘরে প্রবেশ করে বাদিনী জাহানারা বেগমের ওপর হামলা ও ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া তার মেয়ে হালিমা খাতুন রুনা ও শামসুন্নাহার শিমুর গায়ে থাকা কাপড় ছোপড় টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ৩নং স্বাক্ষী শিমুর গলায় থাকা ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নেয়।

আহতদের চিৎকারে স্থানীয় ও বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত দেলোয়ারকে দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ফেনীতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

গত ৪ আগষ্ট জাহানারা বেগম বাদি হয়ে নুরুল আলমের ছেলে তৌফিক আহমদ রায়হান (২০), মকবুল আহমদের ছেলে নুরুল আলম (৫০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে (৪০) আসামি করে দাগনভূঞায় থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ নুরুল আলম ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।

মামলার বাদি জানান, আসামিরা জামিনে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে আতংঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘আমার ছেলের মাথায় ১৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। কুপিয়ে জখম করার কারণে বর্তমানে আমার ছেলে মানসিকভাবে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন জানান, প্রধান আসামি তৌফিক আহমদ রায়হানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে পুলিশ।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম সিকদার জানান, হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!