জান্নাতুল আদ্রিকা->>

ফেনীর বিখ্যাত কবি নবীন চন্দ্র সেনে’র নামে প্রতিষ্ঠিত পাবলিক লাইব্রেরীটি বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। পাঠাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দূর্বল, পর্যাপ্ত বই সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।

সরেজমিন ঘূরে ও পাঠকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর পূর্বে শহরের কলেজ রোডে রাজাঝির দিঘির পূর্ব পাড়ে বিখ্যাত কবি নবীন চন্দ্র সেন’র নামে পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাঠকদের পড়ার জন্য উন্মুক্ত থাকে পাঠাগারটি। লাইব্রেরীতে ৭টি বইয়ের তাক এ প্রায় ১৫’শ বই রয়েছে। যার বেশিরভাগ পুরোতন বই।

পাঠাগারে চারটি গোলাকার টেবিল থাকলেও মাত্র ১৫ থেকে ১৬ জন বসে পড়তে পারে। লাইব্রেরীতে ৭টি জাতীয় বাংলা দৈনিক ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। এছাড়া শহেরর কিছু আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার সুযোগ রয়েছে পাঠকদের। বর্তমানে পাঠাগারে একজন ভারপ্রাপ্ত তত্ববধায়ক ও একজন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তবে কোন নিরাপত্তা রক্ষী না থাকায় পাঠগারের আশপাশে নিয়মিত বসে বখাটের আড্ডা।

মঙ্গলবার বিকেলে পাঠাগারে পড়তে আসা পাঠক কামাল উদ্দিন জানান, ‘লাইব্রেরীটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় এখানে স্কুল/কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বখাটেদের আড্ডার কারনে পাড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বখাটেদের ধুমপান ও হৈ চৈ শব্দে পাঠাগারে বেশিক্ষন বসা যায় না।’

পাঠক নাবিন আফতায়ি বলেন, ‘লাইব্রেরীর বইগুলোতে ধুলাবালি জমেছে। নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের অভাবে অনেকগুলো বইয়ের ঢাল ও পৃষ্ঠা ছিড়ে নষ্ট হয়ে পড়েছে। ছেড়া বইগুলোর মধ্যে অধিকাংশই মুল্যবান বই।’

পাঠক নাফিসা আক্তার নিপু অভিযোগ করে বলেন, ‘সড়কের পাশে লাইব্রেরী হওয়ায় গাড়ীর উচ্চ হর্নের ফলে শব্দ দূষন হয়। যার ফলে বই পড়ায় মনোযোগ নষ্ট হয়।’

লােইব্রেরীতে আগত স্কুল শিক্ষার্থী তুশিকা মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, ‘শিশুদের জন্য এই লাইব্রেরীতে বই পড়ার এবং বসার আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই।’

লাইব্রেরীতে শিশুদের জন্য আলাদা কোন সুযোগ সুবিধা নেই বলে জানালেন ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক সৈকত আহাম্মেদ। তিনি বলেন, পাঠাগারে অর্থ স্বল্পতাসহ বিভিন্ন সমস্য রয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে আর্থিক সহায়তা পেলে পাঠাগারের মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

লাইব্রেরীটির পাঠক ও কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের দাবী অচিরেই লাইব্রেরীটির সীমানা প্রাচীর স্থাপন করে বহিরাগতদের আড্ডা বন্ধ করলে ফেনীর বিখ্যাত কবি নবীন চন্দ্র সেনের নামে নির্মিত পাবলিক লাইব্রেরীটিতে পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

রিপোর্টার : শিশু সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থী, ফেনী সেন্ট্রাল উচ্চ বিদ্যালয়।

Sharing is caring!