ছাগলনাইয়ায় প্রতিনিধি->>
ছাগলনাইয়ায় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ছাগলনাইয়া পৌরশহরের জমাদ্দার বাজারে ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সদ্য শপথ নেয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এনামুল হক মজুমদারের উপস্থিতিতে তার সমর্থকরা ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদ্য ঘোষিত ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে পৌর শহরের জমাদ্দার বাজারে দলের প্রধান কার্যালয়ে উপজেলা নেতৃবৃন্দকে ফুল দিতে ভিড় জমান। ওই সময় পূর্বশত্রুতার জেরে ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামীম মেম্বারের সাথে এনামুল হকের সমর্থক যুবলীগ নেতা বাঁশপাড়া গ্রামের নবীর সাথে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরে এনামের ভাতিজা দলীয় অফিসে এসে বাগবিতণ্ডতায় জড়ালে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত বিপুল নেতাকর্মী এনামের লোকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

দুপুর আড়াইটায় দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার জন্য দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা সভাপতি সামছুদ্দিন আহম্মদ বুলু মজুমদারের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, ছাগলনাইয়া থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মজুমদার, উপজেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, পাঠাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক মজুমদার, ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী জেলা পরিষদের সদস্য কাজী ওমর ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াউল হক দিদারের নেতৃত্বে কয়েক’শ নেতাকর্মী উপস্থিত হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষের মীমাংসার পর জমাদ্দার বাজারের জিরো পয়েন্ট দিয়ে ঘোপালের দিকে রওয়ানা হওয়ার পথে বেলা ৩টায় এনামুল হক মজুমদারের উপস্থিতিতে তার লোকেরা আজিজুল হক মানিকসহ তার লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় আজিজুল হক মানিক, ঘোপাল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন, বাঁশপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য একরাম হোসেন ও ছাত্রলীগের কর্মী রুবেলসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়। নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

হামলার খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীরা হকিস্টিক ও লাঠি নিয়ে রাস্তায় মিছিল করে। ছাগলনাইয়া থানার ওসির নেতৃত্বে বিপুল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

ঘটনার ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এনামুল হক মজুমদার বলেন, তিনি মানিক চেয়ারম্যানসহ তার লোকজনদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে মীমাংসিত বিষয়ের জের ধরে একজন জনপ্রতিনিধিসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনার বিচার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি দলের ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!