নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীতে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে কামারপাড়া গুলোতে ব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও কয়লা ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কামারীদের মুখে নেই হাঁসি। বিগত বছরগুলোর চেয়ে কোরবানীর স্মরঞ্জামের দামও বেড়েছে দ্বিগুন হারে।
জেলার কামারপাড়া গুলো ঘুরে দেখা যায়, বছর জুড়ে কামারপাড়া গুলোতে তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মাসখানের আগ থেকে কামারীদের কদর বেড়ে যায়। এই সময়টাতে কামারীদের দম ফেলার মতো ফুসরত থাকে না। পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র তৈরি ও শান দিতেই দিনরাত ব্যস্ত থাকতে হয় কামারীদের।
শহরের পাঁচগাছিয়া, বিরলী, কাশিমপুর, লক্ষ্মীয়ারার কামার পাড়া, সহদেরপুর কামার বাড়ি, রেলগেইট সুলতান মাহমুদ পৌর হর্কাস মার্কেট, বড় বাজার, তাকিয়া রোড, সোনাগাজী বাসস্ট্যান্ড এ কামার দোকানগুলোতে এখন শুধুই টুং টাং শব্দে মুখোরিত। এসব জায়গায় নতুন দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি তৈরি কিংবা শান দিয়ে ধারিয়ে নিতে গ্রাহকদের ভিড় লেগেই থাকছে।
রেলগেইট সুলতান মাহমুদ পৌর হর্কাস মার্কেটের গনেষ নামে এক কারিগর জানান, নতুন এক একটি দা বা বটি বানাতে সাড়ে ৬শত টাকা থেকে ৮শ টাকা পড়ে। ছুরি একশত টাকা থেকে আড়াই শত টাকা কিংবা চাপাতি সাড়ে সাতশত টাকা থেকে এক হাজার পড়ে। তবে গ্রাহকরা নিজে লোহা কিনে দিলে খবর আরো কম পড়ে। এছাড়া দা, ছুরি, চাপাতি, বটিতে আগে শান দিতে খরচ পড়তো ৩০/৩৫ টাকা। এখন তা বেড়ে ৮০/১০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সহদেরপুর কামার বাড়ির কামারী অরুন জানান, ইট ভাটায় এখন আর কয়লা পাওয়া যায় না। ঢাকা থেকে বস্তা প্রতি ১২’শ থেকে ১৩’শ টাকা দরে কয়লা কিনতে হচ্ছে। কয়লার পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বেড়েছে দ্বিগুন হারে। কামারীরা এখন আর দা, ছুরি বানিয়ে পোষাতে পারছেনা। দাম বৃদ্ধির কারনে প্রতিদিনই ক্রেতাদের সাথে তাদের মনোমালিন্য হচ্ছে।
জেলা শহর ছাড়াও দাগনভূঞার, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েক শতাধিক কামারপাড়ায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে শহরের রাজাঝির দিঘীর পাড়ে সবচেয়ে বড় হার্ডওয়ার দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে বিভিন্ন রকমের দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ মাংস কাটার স্মরঞ্জাম রয়েছে। দেশীয় এসব সরঞ্জামের পাশাপাশি বিদেশী ধামা, চাপাতি, ছুরিও পাওয়া যাচ্ছে।

এ বাজারের আবদুল মোতালেব হার্ডওয়ারের বিক্রেতা শরিফ জানান, প্রতি বছর ঈদের আগের ১৫ দিন যেখানে বেচা কেনা ৩০/৩৫ হাজার টাকা ছিলো সেখানে এখন ৮/১০ হাজার টাকাও বিক্রয় হচ্ছে না। প্রতিটি সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা নতুন সরঞ্জাম কেনা কমিয়ে দিয়েছে।
এ বাজারে আগত জোহরা বেগম নামে এক ক্রেতা জানান, বিগত বছর যে ধামা ৬শত টাকা দিয়ে কিনেছিলেন সেটির এবছর দাম হাঁকছেন ৮শত টাকা। প্রতিটি সরঞ্জামের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে।
পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার মতো অনেকে ক্রেতাই একবারের যেটি প্রয়োজন সেটি ছাড়া পুরোনো সরঞ্জামগুলোকে শানদিয়ে প্রস্তুত করে নিচ্ছে।
তবে একাধিক কামার কারিগরদের দাবি, কয়লা ও কাঁচামালের দাম সহনীয় পর্যায় রেখে কামারীদের পূর্বপুরুষের পেশা বাঁচিয়ে রাখতে সরকার আন্তরিকতার সাথে উদ্যোগ নিবে।

Sharing is caring!