নিজস্ব প্রতিনিধি->>
ফেনীতে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কোরবানির জন্য জেলার ছোট-বড় কয়েক শ’ খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক পশু। ফেনীর তিনদিকে সীমান্ত থাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ না করলে লাভবান হবেন খামারিরা। তবে প্রতিবারের মতো এবারও সীমান্তে গরু প্রবেশ রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, কোরবানি উপলক্ষে জেলায় ছোট-বড় খামারগুলোতে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে খামারিরা। গ্রামগঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে ২/৩টি করে গরু মোটাতাজাকরণ করা হলেও জেলায় বাণিজ্যিক ভাবে কয়েক শ’ খামারে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। ছোট-বড় মিলিয়ে জেলায় ৪ হাজার ২২২টি খামারে ২৩ হাজার ৩০৮টি ষাঁড়, ৩৯ হাজার ২৭২টি আবাল/মহিষ ও ৯৪৬টি গাভীর পরিচর্যা করা হচ্ছে।
ফেনীর খামারগুলোতে শংকর ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, সিন্ধি, হরিয়ানা ও দেশী জাতের গরু সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
তবে বেশি মাংস উৎপাদনে সক্ষম ও বীজ সহজলভ্য হওয়ায় ফ্রিজিয়ান, আর স্বাদ বিবেচনায় দেশী জাতের গরুই বেশি পালন করছে খামারিরা। জেলার সবচেয়ে বড় খামারি পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী সাজেল বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে চলতি বছরের শুরুতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার চার শতাধিক গরু কিনেছেন। তার খামারে প্রতিটি গরুকে কাঁচা ও শুকনো খড়, ভুষি খাইয়ে গরু পালন করা হচ্ছে। প্রতিটি গরু পালনে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গরু ব্যাপারীরা তার থেকে শতাধিক গরু কিনে নিয়েছেন। তিনি আশা করছেন গত বারের মতো এবারও তার খামারে চার কোটি টাকার গরু বিক্রয় হবে।

বড় খামারিদের গরু বিক্রয় নিয়ে শঙ্কা কিছুটা কম থাকলেও ছোট ছোট খামারিদের শঙ্কা ভারতীয় গরু!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গরু খামারি জানান, ঈদ ঘনিয়ে এলে ভারতীয় কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে আসতে থাকে ভারতীয় গরু। স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় একাধিক চক্র সীমান্ত দিয়ে দেশে গরু প্রবেশে সহায়তা করছে। অনেকটা রুগ্‌ণ ও অপুষ্ট এসব গরু বাজারে কমমূল্যে বিক্রয় করায় দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পরশুরাম-বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে যাতে গরু চোরাচালান না হতে পারে সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছেন বলে জানান পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল কাদের। অপরদিকে ফেনীস্থ ৪ বিজিবি’র পরিচালক (অধিনায়ক) লে. কর্নেল নাহিদুজ্জামান জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় প্রচুর ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বিজিবি। গরুর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় গরু মোটাতাজাকরণের বিপুল পরিমাণ ওষুধও জব্দ করে বিজিবি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইসমাঈল হোসেন জানান, কোরবানিতে জেলায় এবার পশুর চাহিদা রয়েছে ৮৫ হাজার। তবে খামারিদের হিসেবে ৮৮ হাজার পশু বাজারে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও ফেনী জেলার পাঁচটি পৌরসভা ও ছয়টি উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৩৯টি পশুরহাট বসেছে।

Sharing is caring!