আদালত প্রতিবেদক->>

সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে ৫ পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলায় ৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হলো।

বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, মঙ্গলবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন শেখ, সোনাগাজী থানার এসআই ময়নাল হোসেন ও নুরুল করিম, পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ও ফেনী পিবিআইয়ের এসআই মো. হায়দার আলী আকনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ জানান, গত ২৭ জুন থেকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে আদালতে এ পর্যন্ত বাদীসহ ৭৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ও তাদের জেরা সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর থেকে সরকারী বন্ধ ছাড়া প্রতি কর্মদিবসেই আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার সাক্ষ্যগ্রহণ জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন, দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়ের, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন ও সোনাগাজী মাদ্রাসার দপ্তরি মো. ইউসুফ, সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল করিম, মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকী, মাদ্রাসাছাত্রী তানজিনা বেগম সাথী ও বিবি জাহেদা বেগম তামান্না, মাদরাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, মাদরাসার আয়া বেবি রানি দাস, আকলিমা আকলিমা আক্তার, মো. কায়সার, ফাহমিদা আক্তার, নাসরিন সুলতানা, মোহাম্মদ কবির আহমেদ, মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর ছিদ্দিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আকবর, পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেল হোসেন, এসআই (শিক্ষানবিশ) ডি এইচ এম জহির রায়হান ও মো. আরিফুর রহমান, মো. আজহারুল ইসলাম এমরান ও মো. ওমর ফারুক, আসামী উম্মে সুলতানা পপির চাচি মোসাম্মৎ রাবেয়া আক্তার, সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, স্থানীয় দোকানদার মো. ফজলুল করিম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাফর ইকবাল, সোনাগাজী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মহীউদ্দিন চৌধুরী, কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, স্থানীয় হাফেজ মোবারক হোসেন, মো. ইব্রাহিম, মো. নুর উদ্দিন ও আকরাম হোসেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক সেলিমুর রেজা, মো. আবুল কাশেম, এমদাদ হোসেন পিংকেল ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান, মোশারেফ হোসেন, মো. গোলাম মাওলা, মনির হোসেন, ফেনীর জেল সুপার রফিকুল কাদের, কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন, ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা, স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো. গোলাম মাওলা, মোশারেফ হোসেনের, নুসরাতের বাবা একেএম মুসা, চাচাতো ভাই মুহাম্মদ আলী ও মামা সৈয়দ সেলিম, ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু তাহের ও সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আরমান বিন আবদুল্লাহ, ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন, রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিআইডির সহকারী ও রাসায়নিক পরীক্ষক রোমানা আক্তার, পিবিআইয়ের ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল বদি, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন, ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ, প্রদীপ বিশ্বাস, জান্নাতুল ফেরদৌস, মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম, এ কে এম মনিরুজ্জামান এবং অর্চনা পাল, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন শেখ, সোনাগাজী থানার এসআই ময়নাল হোসেন ও নুরুল করিম, পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ও ফেনী পিবিআইয়ের এসআই মো. হায়দার আলী আকনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর জের ধরে গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে; যা মৃত্যুশয্যায় নুসরাত বলে গেছেন। এরপর টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীমের (২০) সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়।

Sharing is caring!