শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রনে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প এর আওয়তায় সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে ফেনী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালায় প্রধান অতাথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাঈদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ৬৪ জেলা শহরের শব্দের মাত্রা পরিমাপ জরিপের টীম লিডার স্টামফোড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিঞ্জান বিভাগের বিভাগীয় অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও ইকিউমএমএস কনসালটিং লিমিটেড এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর বাস্তবায়নে কর্মশালায় প্রজেক্টরে শব্দদূষণের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্পের গবেষণা সহকারী শাহ পরান।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জিয়া সরকারী মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল বশর ভূঞা, পলিটিকেল সাইন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন ইমা, জেলা ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই-এডমিন) আনোয়ারুল আজিম, ফেনী বিসিক শিল্প নগরীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরবিন্দ দাস, ফেনী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম নবী, জৈষ্ঠ সাংবাদিক দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবু তাহের, সময় টিভির ফেনী ব্যুরো প্রধান বখতেয়ার মুননা, পরিবেশ সাংবাদিক বাংলাভিসনের নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা) কেফায়েত শাকিল, দৈনিক মানবজমিনে জেলা প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আজম চৌধুরী, ফেনী জেলা ট্রাক-মিনিট্রাক শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়’র সভাপতি মঞ্জিলা মিমি।

কর্মশালায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে জেলায় শব্দদূষণের কয়েকটি স্পট তুলে ধরেন। শহরের মহিপাল, ট্রাংক রোড, একাডেমী, কলাবাগান, হাসপাতাল সড়ক, ডিসি অফিস সড়ক, বিসিক শিল্প এলাকার সড়ক, ইসলামপুর রোড, শহীদুল্লা কায়সার সড়ক এলাকায় বেশি শব্দদূষণ হয়। মোটরসাইকেল হাইড্রোলিক হন, সরকারী/বেসরকারী ব্যক্তিগত গাড়িতে ইমার্জেন্সি হণ যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ করা, ওয়াজ-মাহফিলে মাইক নিদ্দিষ্ট সীমার বাহিরে না যেতে হুজুরদের সতর্ক করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতাতম তুলে ধরেণ।

জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, শব্দদূষণ নিরব ঘাতক। আমাদের সব জায়গায় সমস্যা। একটার সমাধানের উদ্যোগ নিলে অন্যটা পাশে এসে দাঁড়ায়। এত এত সমস্যা থাকলে কাজ করা কঠিন। বিদেশ থেকে মানুষ আসলে আমাদের অসভ্য জাতি মনে করে। সবাই যার যার জায়গা থেকে সচেতন হলে শব্দদূষণ রোধ করা যায়। উচ্চস্বরে শব্দ বাজানোর জন্য অচিরেই জেলা জুড়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

স্টামফোড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিঞ্জান বিভাগের বিভাগীয় অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, শব্দদূষণ একটি সরব ঘাতক। আমরা প্রতিনিয়ত জেনে বুঝেও শব্দদূষণ করছি। একটু সচেতন হলে শব্দদূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

কর্মশালায় শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরের স্টেক হোল্ডার, পরিবহনের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।