ডেক্স রিপোর্ট->>

‘চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল তিন বছর। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ভাড়া ও পরিবহন ব্যয়ে খরচ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ গত জুনে তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে যথাসময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।

মেয়াদ বাড়লেও বাড়েনি পণ্যের কাঁচামালের পরিমাণ। প্রকল্পের সংশোধনীতে একই পরিমাণ পণ্যের ভাড়া ও পরিবহন খরচ ১১ কোটি ৮৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এ খাতে আট কোটি নয় লাখ টাকার বাড়তি খরচ ধরা কতটা যৌক্তিক- জানতে চাইলে জিটিসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও প্রকল্প পরিচালক মো. আইনুল কবীর বলেন, ‘প্রাক্কলিত এস্টিমেটে (হিসাবে) নিশ্চয়ই গলদ ছিল। সেই এস্টিমেটটা ঠিক হয় নাই।’

আইনুল কবীরের দাবি, ‘আমরা বিদেশ থেকে যে ম্যাটেরিয়াল (পণ্য) আনছি, সেগুলোর ওজন ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে। প্রতি ইউনিট ওজন বাড়ায় দূরুত্বপ্রতি খরচও বেড়েছে। এতে যা খরচ হবে, তা-ই ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।’ সেই সঙ্গে ডলারের রেট বেড়ে যাওয়ায়ও এ খাতে খরচ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

শুধু পণ্যের ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় নয়; এমন আরও ২১ খাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে এ প্রকল্পে। এসব খাতে মোট ব্যয় বেড়েছে ৫১৭ কোটি তিন লাখ টাকা। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল এক হাজার ৯৬২ কোটি এবং প্রথম সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে দুই হাজার ৪৭৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে আইনুল কবীরের বক্তব্য, ‘সব ধরনের নথিপত্র দেখে মূল্যায়ন কমিটি সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যয় নির্ধারণ করেছে।’

সময় বাড়ে অর্ধেক, খরচ বাড়ে দুই থেকে তিনগুণ

প্রকল্পের অবাক করা বিষয় হলো, আপ্যায়ন, সম্মানী, সিল, স্টেশনারি, অনুলিপিসহ বেশকিছু খাতে খরচ তিন বছরে যা ধরা হয়েছিল; দেড় বছর সময় বাড়ানোর পর এসব খরচ কোনোটা দ্বিগুণ হয়েছে, আবার কোনোটা হয়েছে তিনগুণ!

স্টিল, সিল ও স্টেশনারি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে তিন বছরের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। দেড় বছর সময় বাড়ানোর পর তা করা হয়েছে আট লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজে আসা অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ টাকা, এখন তা করা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রয়োজনে আয়োজিত সভায় অংশ নেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের সম্মানী বা পারিতোষিক দেয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল তিন বছরে ১৫ লাখ, দেড় বছর সময় বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

তিন বছরে অনুলিপি ব্যয় ছিল ১০ লাখ টাকা, দেড় বছর সময় বাড়ানোর পর তা দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। আসবাবপত্র সাড়ে সাত লাখ টাকা থেকে করা হয়েছে নয় লাখ টাকা। অন্যান্য ভবন ও কাঠামো ব্যয় নয় কোটি ৮৯ লাখ ২২ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩ কোটি ১৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা। খুঁটিনাটি সব খাতে বরাদ্দ রাখা ও বাড়ানোর পরও ‘অন্যান্য ফি’তে ৪৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

আবার কোনো কোনো খাতে এক টাকাও বরাদ্দ ছিল না প্রাক্কলিত বরাদ্দে, সেসব খাতেও আকাশ ছোঁয়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে সংশোধনীতে।

প্রাক্কলিত ডিডিপিতে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য কোনো খরচ বরাদ্দ ছিল না। তবে সংশোধনীতে শূন্য থেকে তা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। কাজের পরিধি একই থাকলেও বাড়তি শ্রমিকের প্রয়োজন ছিল না বিধায় সেখানে আলাদা খরচও ধরা হয়নি প্রথমে। কিন্তু সংশোধনীতে শ্রমিকের মজুরির জন্য ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে জিটিসিএল। কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যেসব মানুষকে উচ্ছেদ করা হবে, তাদের পুনর্বাসন বাস্তবায়ন তদারকির জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হবে। এজন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। অথচ প্রথমে বা প্রাক্কলিত ডিডিপিতে এ বহিঃবিশেষজ্ঞের প্রয়োজন ছিল না বলে আলাদা কোনো অর্থের বরাদ্দ ছিল না।

সংশোধিত এ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে ভূমি অধিগ্রহণে। ৩৭২ দশমিক ১ একর জমি অধিগ্রহণে ৩৬৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

অন্যদিকে কাজের পরিমাণ এক হলেও দেড় বছর অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়তি ব্যয় ধরা হয়েছে সংশোধনীতে। ১৮১ কিলোমিটার সিটি সিস্টেম স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। একই পরিমাণ কাজ করা হবে, কিন্তু সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা।

তিনটি টিবিএস অ্যান্ড মিটারিং স্টেশন স্থাপনে ১১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল প্রথমে। সংশোধনীতে একই কাজ করতে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা বাড়তি ধরে ১১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া লাইন পাইপ, বেল্ডস, কোটিং ম্যাটেরিয়ালস, সিপি, টিইজি প্রভৃতির জন্য ৫৫৭ কোটি সাত লাখ ১১ হাজার থেকে ৫৮৪ কোটি ২৮ লাখ; ১৮১ কিলোমিটার সিটি সিস্টেম স্থাপনে ৯৯ লাখ ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ; তিনটি টিবিএস অ্যান্ড মিটারিং স্টেশন স্থাপনে ১১১ কোটি ৫২ লাখ থেকে ১১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা; ইপিসি ভিত্তিতে ইন্সটলেশন অব স্কাডা সিস্টেমে ১২ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা; ২৪৫ কোটি তিন লাখ ১৫ হাজার থেকে ২৬৪ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার টাকা; ব্যাংক চার্জ তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার; প্রচার ও বিজ্ঞাপনে ২৫ লাখ থেকে ২৯ লাখ টাকা; নিরাপত্তা সেবা ২৪ লাখ থেকে ৩২ লাখ টাকা; মাইক্রোবাস হায়ারিং চার্জ শূন্য থেকে ৭২ লাখ টাকা এবং পুনর্বাসন ও রিসেটেলমেন্ট কমপেন্সেশন খরচ ৬৬ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এর বাইরে কিছু খাতে খরচের পরিমাণ কমেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে প্রকল্পের খরচ অনেক বেড়েছে।

যা বলছেন প্রকল্প পরিচালক

গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার বিষয়টি জানতে চাওয়া হয় জিটিসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও প্রকল্প পরিচালক মো. আইনুল কবীরের কাছে। জানতে চাওয়া বেশকিছু খাতে ব্যয় বাড়ার ব্যাখ্যাও প্রদান করেন তিনি।

আপ্যায়ন ব্যয় ২০ লাখের জায়গায় ৩৫ লাখ টাকা করার ব্যাখ্যায় আইনুল কবীর বলেন, ‘প্রকল্পের প্রথম এক বছর তো কোনো কাজই ছিল না। প্রকল্পের কাজ হয় তখন, যখন মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়। আমাদের এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আমাদের অনেকগুলো সেটেলমেন্ট (বন্দোবস্ত) আছে। এ সেটেলমেন্টে অনেকগুলো কমিটি আছে। প্রকল্পের ১১টা উপজেলার প্রায় প্রতিটিতে আমাদের কমিটি আছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা আছে। সবকিছু বিবেচনায় এ ব্যয় ধরা হয়েছে।’

যদিও প্রকল্পের প্রথম এক বছর কাজ কম হওয়া এবং এডিবি, বিশ্ব ব্যাংক ও এআইআইবি-সহ যেসব সভা হওয়ার কথা বললেন এ প্রকল্প পরিচালক, সবই সংশোধনীর আগে থেকেই নির্ধারিত। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘ধরা হয়েছে বলেই এমন না যে, তা খরচ হবেই, এমনটা নয়। খরচ হয়তো হবে না।’

অনুলিপি ব্যয় ১০ লাখ থেকে ৩৮ লাখ করার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের পুরাতন আইনে অনুলিপি ট্রেসিং পেপার দিয়ে করলেই হতো। নতুন আইন অনুযায়ী কাগজপত্র ট্রেসিং ক্লথে বা কাপড়ে প্রিন্ট করতে হয়। কাপড়ে প্রিন্টিং ব্যয় অনেক বেশি। এছাড়া নতুন আইন অনুযায়ী, প্রচুর ফরম দিতে হবে। এসব মিলিয়ে অনুলিপি বা প্রিন্টিং ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।’

তার দাবি, এগুলো নিয়ে কমিটি প্রচুর গবেষণার পর এ খরচ নির্ধারণ করেছে।

সম্মানী/পারিতোষিক ১৫ লাখের জায়গায় ৩৪ লাখ টাকা করার বিষয়ে এ প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমাদের কমিটি আছে অনেকগুলো। প্রকল্প পর্যবেক্ষণ কমিটি, স্টিয়ারিং কমিটি, জেআরসি কমিটি, প্রপার্টি এভালুয়েশন (মূল্যায়ন) কমিটি – প্রত্যেকটা কমিটি সভা করবে। কোনো কোনো কমিটি এক মাস ধরে সভা করবে, কোনোটা তিন মাস পরপর। সার্বিকভাবে মোট কতগুলো সভা হবে এবং তাতে কতজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন- এ হিসাবে যত টাকা ব্যয় হবে, সেটাই ওখানে যুক্ত করা হয়েছে।’

যদিও প্রথমে এসব হিসাব করে ১৫ লাখ টাকা সম্মানী/পারিতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রাক্কলিতের চেয়ে সংশোধনীতে বাড়তি সভার আয়োজন করা হবে কি-না, করলে কতগুলো – এসব তিনি উল্লেখ করেননি।

সম্মানীর ক্ষেত্রে ব্যক্তিপ্রতি তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্টিল, সিল ও স্টেশনারি সাড়ে চার লাখের জায়গায় আট লাখ টাকা খরচের বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘আগামী দেড় বছরে এটা খরচ হবে আর কী।’

৩৭২ দশমিক ১ একর ভূমি অধিগ্রহণে ৩৬৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজারের জায়গায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনুল কবীর বলেন, ‘যত টাকা বেড়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকাই হলো ভূমি অধিগ্রহণে। কারণ সরকার জমির আইন পরিবর্তন করেছে। ভূমি অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী, জমির বাজার মূল্যের দেড়গুণ ক্ষতিপূরণ পেতেন মালিক। নতুন আইন অনুযায়ী জমির মূল্য তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর এ আইন পাস হয়। এটা সরকারের ল্যান্ড অ্যাকুইজেশন রুলস বা ভূমি অধিগ্রহণ আইন।’

যে জন্য নেয়া হয়েছে এ প্রকল্প

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় গ্যাসের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর কাছের সমুদ্রে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (ফ্ল্যাটিং স্টোরেজ রিগ্যাসফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ) স্থাপনের জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) ও গ্যাস সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের চুক্তি সই হয়।

সরকারের এ বিভাগের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, বর্তমানে ইইবিএলের ভাসমান টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিট থেকে এ বছরের এপ্রিল থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে কি-না, এর সাম্প্রতিক তথ্য জানা যায়নি। এছাড়া পেট্রোবাংলার ভবিষ্যতে আরও এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত গ্যাস দেশের সার্বিক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ফৌজদারহাট থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো সৃষ্টি করা হচ্ছে এ প্রকল্পের আওতায়।

এর আওতায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে ফেনী হয়ে কুমিল্লার বাখরাবাদ পর্যন্ত এক হাজার পিএসআইজি চাপসম্পন্ন ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের ১৮১ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাক্কলিত সময় গত জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম সংশোধনীতে এর মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

এ প্রকল্পের আওতায় দুটি টিবিএস ও একটি মিটারিং স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক আইনুল কবীর বলেন, প্রকল্পের সময় মূলত বাড়ানো হয়েছে তিনটা মিটারিং স্টেশনের জন্য।

কাজের অগ্রগতির বর্ণনা দিয়ে আইনুল কবীর বলেন, ‘কাজের বাস্তব অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি একটু কম আছে, ৬৬ শতাংশ হয়েছে।’

‘আমাদের তিনটা জেলা – কুমিল্লা, ফেনী আর চট্টগ্রাম। কুমিল্লাতে সাতটা উপজেলা আছে। কুমিল্লা থেকে ফেনী হয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত আমাদের প্রায় কাজ শেষ হয়ে গেছে। শুধু টেস্টিংগুলো চলছে। আশা করি, ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে টেস্টিংগুলো শেষ হয়ে যাবে।’

সীতাকুণ্ড নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের যেদিক দিয়ে গ্যাস লাইন যাবে, সেদিকে প্রায় সাড়ে ছয়শ অবকাঠামো আছে। কারও বাউন্ডারির দেয়াল, কারও বাড়ি, কারও ইন্ডাস্ট্রিজ, কারও পুকুর, কারও শিপইয়ার্ড রয়েছে- সবকিছু মিলিয়ে জটিল অবস্থা। এছাড়া প্রকল্পের ১৬০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ কাজ হয়ে গেছে। সীতাকুণ্ডে মোট ৩৬ কিলোমিটার গ্যাসের লাইন যাবে। এর মধ্যে ১৬ কিলোমিটার করে ফেলেছি। ২০ কিলোমিটার কাজ বাকি রয়ে গেছে।’

তার বক্তব্য, ‘আসলে এটা বড় লাইন। ৩৬ ইঞ্চি লাইন তো আঁকাবাঁকা নেয়া যায় না। এটা নিতে হবে সোজা। এজন্য জায়গা দরকার। সীতাকুণ্ডে এতগুলো স্ট্রাকচার ভেঙে লাইন করাটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে।’

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘পাইপলাইনের কাজ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে শেষ করে ফেলব। আর গ্যাসলাইনের কাজ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’

সূত্র : জাগো নিউজ

Sharing is caring!