শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে সয়াবিন তেল ও ময়দার উর্ধ্ব মূল্যের প্রভাব পড়েছে বেকারি পণ্যে। এতে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি, বাটার বন, পেটিস, জিম রোল, ড্রাই কেক সহ বিভিন্ন পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বুধবার শহরের বেশ কয়েকটি বেকারী কারখানার শো-রুম ও বড় বাজারে বেশ কয়েকটি খাদ্যদ্রব্যের দোকান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সয়াবিন তেল ও ময়দার দাম বাড়ানো হয়। এরপর বেকারি মালিকরা লোকসান এড়াতে পণ্যের ধরণ অনুযায়ী ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে ২০৪ লিটারের পামওয়েল তেল ৩৩ হাজার ৪৫৬ টাকার স্থলে ৩৭ হাজার ১২৮, ১৬ কেজির এক কার্টুন ডালডা ২ হাজার ৭৫০ টাকার স্থলে ৩ হাজার ১৭৬, ৫০ কেজির ১ বস্তা চিনি ৩ হাজার ৬শ টাকার স্থলে ৩ হাজার ৭শ টাকা, ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫শ টাকার স্থলে ২ হাজার ৮শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হীরা বিস্কুট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। রোববার এক বস্তা ময়দা ১ হাজার ৮শ ৫০ টাকা দিয়ে কেনা হলেও সোমবার সেই ময়দা কিনতে হয়েছে ২ হাজার ১শ ৫০ টাকায়। একদিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ৩শ টাকা।

দিলদার ব্রেডের ম্যানেজার মোশারফ হোসেন জানান, উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিতে পণ্য অনুযায়ী দাম বাড়ানো হয়েছে। বিস্কুট প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৩৮০, ড্রাই কেক ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বাটার বান ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা, পেটিস ১০ টাকা থেকে ১২টাকা, পাউরুটি আকার ভেদে ৫ থেকে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভিশন টাচ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল বাসার সুমন জানান, বেকারি পণ্য উৎপাদনের মূল উপকরণ ভোজ্য তেল, ডালডা, চিনি, ময়দা, দুধ, ডিম ও অন্যান্য উপাদান এবং প্যাকেজিং সামগ্রী ও পরিবহন খরচ গত একবছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। এ অবস্থায় পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েও পুষিয়ে না উঠায় বেকারি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কারণ পণ্যের মূল্য বাড়ানোর পরদিন থেকে আবার কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। অথচ মালিকদের পক্ষে প্রতিদিন দাম বাড়ানো সম্ভব হয়না।

সাকুরা ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব জানান, দিনদিন যেভাবে কাঁচামালের দাম বাড়ছে সেক্ষেত্রে বেকারি পণ্যের দাম না বাড়ানোর উপায় নেই। এভাবে চলতে থাকলে ফ্যাক্টরী টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বেকারি শিল্প টিকিয়ে রাখতে কাঁচামালের মূল্য কমাতে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টস্ এর পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে কোম্পানী লোকসান গুনতে হচ্ছে। কোম্পানীর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম এখনো বাড়েনি। তবে উৎপাদন খরচ পোষাতে আগামী সপ্তাহ থেকে দাম বাড়ানো হতে পারে।