নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীতে টানা বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১০টি স্থান ভেঙ্গে গেছে। এতে পরশুরাম ও ফুলগাজি উপজেলার অন্তত: ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজি উপজেলা সদরের মূল সড়ক তলিয়ে গেলেও আজ সকালে পানি নেমে গেছে। তবে পানিতে তলিয়ে গেছে পরশুরাম উপজেলার বিস্তৃীর্ণ এলাকা।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহির উদ্দিন জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল পানির তোড়ে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধের কমপক্ষে ১০টি স্থানে ভেঙে গেছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ফুলগাজি উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুুল আলীম জানান, মুহুরী নদীর ফুলগাজী বাজারস্থ গার্ড ওয়াল তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে বাজারের দোকানপাট পানিতে তলিয়ে যায়।
আজ বুধবার সকালে বাজার থেকে পানি নেমে গেলেও উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ফুলগাজীর উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর, বরইয়া ও জয়পুর গ্রাম অংশে মুহুরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, পুকুর প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে পরশুরাম উপজেলার উত্তর শালধর অংশে দু’টি, ধনিকুন্ডা, নোয়াপুর, দৌলতপুর ও কিসমত ঘনিয়া মোড়াসহ অন্তত: ৬টি অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি জমেছে শালধর, ধনিকুন্ডা, চিথলিয়া, রাজষপুর, মালিপাথর, নিলক্ষী, দেড়পাড়া, জয়পুর, কিসমত ঘনিয়ামোড়া, দূর্গাপুর, রামপুর ও পশ্চিম ঘনিয়া মোড়া গ্রামে। গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, পুকুর ও রাস্তাঘাট।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য উপজেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।

Sharing is caring!