বিশেষ প্রতিবেদক->>

মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। নামটি একটি ব্রান্ড। ছাত্রা অবস্থায় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল একজন সফল রাজনীতিবিদ। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন সোহেল চৌধুরী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কয়েক বছর পূর্বে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সম্পাদক-প্রকাশক হিসেব দৈনিক প্রভাত আলো পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। জন্মদাত্রী মাকে স্মরণে ‘আম্মানী বিল্ডার্স এন্ড রিয়েল স্টেট লিমিটেড’ নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

জেল-যুলুম ও নির্যাতন ডিঙিয়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাগলনাইয়া উপজেলায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল একটি সফল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠন করেছেন। নিজেকে এলাকাবাসির সেবক হিসেবে নিয়োজিত করেছেন। বর্তমানে গরীব-দুঃখীদের আস্থার নাম সোহেল চেয়ারম্যান। প্রতিনিয়ত মুক্তহস্তে দান করে চলেছেন উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের অভিভাবক আওয়ামী লীগের কান্ডারী সোহেল চৌধুরী।

সোহেল চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যরিয়ার:
হরিপুর আলী আকবর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন সোহেল চৌধুরী। ১৯৯১ সালে ফেনী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে সোহেল চৌধুরী কলেজ ছাত্রলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত হইন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে প্রার্থী ছিলো সোহেল চৌধূুরী। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার ভোটের দিন ভোট বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি জিএস হতে পারেনি। পরবর্তীতে তিনি ফেনী জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও পরে জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। আ’লীগ সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন হাজারী দেশানতরী হওয়ায় ২০০৩ সালে সোহেল চৌধুরী সাউথ আফ্রিকা পাড়ি জমান। ২০০৫ সালে সোহেল চৌধুরী সাউথ আফ্রিকা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ২০০৬ সালে সাউথ আফ্রিকা আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার গঠন করে তখন সোহেল চৌধুরী নেত্রীর সাথে দেখা করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তৎকালীন সময়ে সোহেল চৌধূরীর নামে বিভিন্ন মামলা ছিলো। একাধিক মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডও দিয়েছিলো। এদের মধ্যে একটি মামলায় ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম মাসুদের ড্রিল মেশিনের মামলায় সোহেলকে দশ বছরের সাজা দিয়েছিলো আদালত। অনেকগুলো মিথ্যা এবং হত্যা দিয়ে সোহেল চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের যে নীল নকশা তারা তৈরি করেছিলো পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে এসে আত্নসমর্পন করে সকল মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পায়।

দানেই প্রশান্তি সোহেল চৌধুরী :
ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ অফিস কিংবা ফেনী শহরের আপ্যায়ন আফরোজ টাওয়াররের অফিস যেখানেই থাকনে না কেন অসহায় মানুষ তার সাথে দেখা করতে চাইলে বিনা বাধায় মেলে সুযোগ। অফিসে কিংবা কোন অনুষ্ঠান স্থালে অথবা হাঁটতে চলতে অসহায়-হতদরিদ্র মানুষ তার কাছে সাহায্য চাইলেই মিলে অর্থ সহায়তা। মহামারি করোনার শুরু থেকে প্রতি শুক্রবার নিজ বাড়ির আঙিনার মসজিদের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ অর্থ দান শুরু করেন সোহেল চৌধুরী। যা তিন বছর ধরে চলমান রেখেছেন। কেবল আর্থিক সহযোগিতা নয়, মানুষের আনুষাঙ্গিক যা কিছু প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে চলেছেন সোহেল চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমেও প্রতিনিয়ত দানের সংবাদ ও ছবি প্রকাশ হচ্ছে।

দানের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি’র পরামর্শ রয়েছে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সেই কারণে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। যতদিন সামর্থ্য থাকবে ততদিন আমি মানুষের পাশে থাকবো।’

বিগত কয়েক বছরে চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বিভিন্নভাবে দলের দুস্থ্য, এলাকার অসহায়, উপজেলা নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। চলতি বছরের ১০ মার্চ পাঠাননগর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৩ বারের সাবেক ইউপি সদস্য ক্যান্সার আক্রান্ত আবু তাহের বকশির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান সোহেল। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য নগদ ৪০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ উদ—দৌলা মজুমদারের যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নেন সোহেল চৌধুরী। এর আগে প্রবীণ এ নেতার জন্য ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি এক লাখ টাকা প্রদান করেন। মহামায়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাটিয়াগোদা গ্রামের এক বৃদ্ধার শোবার খাট ভেঙে যাওয়ায় তার জন্য একটি খাট, তোশক, বালিশ ও বিছানা চাদরের ব্যবস্থা করে দেন সোহেল চৌধুরী। ইংরেজিতে দক্ষ এক কিশোর মানসিক প্রতিবন্ধীর প্রতি এগিয়ে এসেছেন সোহেল চৌধুরী। প্রতিবন্ধীর শিক্ষার্থীর শিক্ষার যাবতীয় খরচ বহন করে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন।

আদর্শ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংগঠক, দক্ষ শাসক ও মানবিক নেতা মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের দানের আওয়তা থেকে বাদ পড়েন না ভাসমান, ছিন্নমূল, প্রতিবন্ধী, জেলে, রিকশাচালক, সেলুন দোকানদার, শ্রমিক, টমটম সিএনজিচালকও। তার শাসন আমলে মুক্তিযোদ্ধা, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় এসেছে উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। বাল্যবিবাহরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, সহাবস্থানের রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাগলনাইয়া উপজেলা দেশের একটি মডেল উপজেলা হিসেবে স্বীকৃত।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে সম্প্রতি স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট-২০২২ এর স্পন্সর ছিলো মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের পরিচালিত আম্মানী বিল্ডার্স এন্ড রিয়েল স্টেট লিমিটেড। খেলাধুলায়ও তার অনুদান চলমান রেখেছেন।

উপজেলার যত উন্নয়ন :
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ মে ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, সামাজিক ক্ষেত্রে স্মরণকালের উন্নয়ন করেছেন মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলে। বিগত ৮ বছরে প্রায় উপজেলায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে মুহুরী নদীর ওপর মহামায়া ব্রিজ, শান্তিরহাট ভূইয়ারহাট ব্রিজ, করৈয়া ব্রিজ নিমাণ। ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে শান্তিরহাট—ফেনী সদর সড়ক নির্মাণ, ২৪ কোটি টাকা ব্যায়ে রানীরহাট—মনুরহাট সড়কের কাজ, ২৩ কোট টাকা ব্যয়ে ছাগলনাইয়া—মুহুরীগঞ্জ সড়কের প্রশন্তকরণ, ১৭ কোটি টাকা ব্যায়ে কারিগরি স্কুল অ্যন্ড কলেজের কাজ শুরু হচ্ছে, ১৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ছাগলনাইয়ায় মডেল মসজিদের নির্মাণ, ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ছাগলনাইয়া—শুভপুর সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ, ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজের বহুতল ভবনের নির্মাণ, উপজেলার ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি কলেজ, ১৫টি মাদ্রাসায় বহুতল ভবন ও বহুতল ভবনের ভিত্তির একতলা ভবন নিমার্ণসহ ২৩০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও সংস্কারের কাজ হয়েছে। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনী নদীর ওপর শুভপুর ব্রিজের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে শুরু হবে। এগুলো ছাড়াও চলমান রয়েছে আরও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।

সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাচনে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরে জনগনের প্রত্যাশা কতটুকু পূরন করতে পেরেছি তা একমাত্র জনগনই ভালো জানেন। কিন্তু আমার যেটা ইচ্ছা ছিলো এখানে রাজনীতি করে মানুষের কল্যানে সর্বদা নিজেকে আত্মত্যাগ করা। সেটার কাছাকাছি আমি পৌঁছে গিয়েছি এবং ২য়ত আমার উদ্দেশ্য ছিলো ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষ যুগ যুগ ধরে নির্যাতিত, নীপিড়িত ও বঞ্চিত ছিলো। এখানে সাধারণ মানুষের কথা বলার কোন অধিকার ছিলোনা। মুষ্ঠিমেয় কিছু সমাজপতিদের কারনে তারা জিম্মি হয়েছিলো। শুধু আ’লীগ নয় সকল ধর্ম ও বর্নের মানুষ তাদের কাছে জিম্মি ছিলো। সেই সমাজপতিদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে তাদেরকে মুক্ত করতেই মূলত আমার রাজনীতিতে আসা। আমি বিশ্বাস করি আজকে ছাগলনাইয়াতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাগলনাইয়া উপজেলায় চুরি, ডাকাতি বন্ধ হয়েছে। আমার বোনেরা স্কুল কলেজে যেতে ইভটিজিং থেকে মুক্তি পাচ্ছে। উপজেলার ব্যবসায়ীরা মাথা উঁচু করে চলাফেরা করছে। ব্যবসায়ীরা কাউকে চাঁদা দিতে হয়না, চোর ডাকাতের মাধ্যমে কোন লাঞ্ছিত হচ্ছেনা। আমার মা-বোনেরা যখন রাস্তায় বের হয় তখন অক্ষত অবস্থায় আবার ইজ্জত সম্মান নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। উপজেলার সর্বক্ষেত্রে তৃনমূল পর্যায়ে মানুষের কথা বলার অধিকার আছে। এখানে মূলত আ’লীগ বিএনপির বিচার হয়না। এই ছাগলনাইয়া উপজেলায় আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে অতীতের ন্যায় সাদাকে সাদা বলি, এবং কালোকে কালো বলি। আমরা দেখেছি যদি আ’লীগের কোন নেতাকর্মীর দ্বারা সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে সাথে সাথে আমরা আ’লীগের সেই নেতাকর্মীকে যত বড় পদের অধিকারী হোক না কেনো তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। আ’লীগের নেতাকর্মীরা কোন সন্ত্রাস কিংবা খারাপ কাজের সাথে জড়িত থাকে তাহলে সাথে সাথে তাদের বিচার করেছি। ঠিক তেমনিভাবে মানুষের মধ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। তাই সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সেটা নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমীর্রা তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশে তার সরব উপস্থিতি তৃণমুল নেতা-কর্মীদের প্রাণের সঞ্চার তৈরী হয়। দীর্ঘদিন উপজেলায় নের্তৃত্ব দেওয়া এই নেতা আগামী জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ফেনী-১ সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হতাশ দলীয় নেতা-কর্মীরা। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলকে আগামী নির্বাচনে নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানান সর্বস্তরের লোকজন।

মেসবাউল হায়দার সোহেল চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ভিশন—২০৪১ বাস্তবায়ন করে আমরা ছাগলনাইয়াকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক উপজেলায় রুপান্তর করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। সব মতাদর্শের ও সকল ধরনের রাজনৈতিককমীর্দের পাশাপাশি বসবাসের উপযুক্ত করা হয়েছে ছাগলনাইয়াকে।