image

নাজমুল হক শামীম,২৮ ডিসেম্বর->>

সারাদেশের মতো দক্ষিনের জেলা ফেনীতেও শীতের প্রকোপ বেড়েছে। জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পাশাপশি গত দু’দিন দুপুর পর সূর্যের দেখা মিলেছে। রাতে আর ভোরে বেড়েছে আগের চেয়ে কুয়াশার তীব্রতাও। রোববার জেলায় সর্বনিম্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। শীতের সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও। বিশেষ করে শিশু-বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে। আর গরম কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ।
ফেনী আবহওয়া অফিসে জেলা কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, রোববার জেলায় সর্বনিম্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন ১২.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে কমেছে। শৈতপ্রবাহ অব্যহত থাকলে তাপমাত্রা আরো নীচে নামতে পারে। জানুয়ারীতে মাঝারি আকারের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে বলেও তিনি আভাস দিয়েছেন।
ফেনী সদর হাসপাতাল উপ-সেবা তত্বাবধায়ক নিলুফা সুলতানা জানান, শীতজনিত রোগে শিশু-বৃদ্ধরা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। এদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়া রোগী বেশি। ফেনী সদর হাসপতালে শিশু ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার চারগুনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। এছাড়া জরুরি বিভাগে শীতজনিত রোগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচশোরও বেশি রোগী। এদের মধ্যে ডায়েরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। শিশুদের নিরপদে রাখতে অবিভাবকদের বাড়তি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সদর হাসপতাল ছাড়াও জেলার ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতেও রোগীদের একই চাপ রয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. আজিজুল হক জানান, ঘন কুয়াশায় রবিশস্যের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে। টমেটো, ফুলকপিসহ রবি মৌসুমের ভালো ফলনের জন্য সুর্যের আলো খুব জরুরী তাই এমন কুয়াশা রবি শস্যের ক্ষতি করবে। এছাড়া কুয়াশার সাথে যদি হালকা বৃষ্টিপাত হয় তবে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় নিম্মআয়ের খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে শীত বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে জেলার চরাঞ্চল সোনাগাজী উপজেলার দরিদ্র মানুষ। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর দিন কাটছে অনেকের। কেউ কেউ খড়-কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
অপরদিকে শীত নিবারনের জন্য জেলার বিভিন্ন বেসরকারী সামাজিক সংগঠন শীতার্ত দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে।

Sharing is caring!