বিশেষ প্রতিনিধি:
১নভেম্বর, শনিবার:—->>>

গত এক দশকেরও বেশী সময় ফেনীর স্বাস্থ্য বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর কোনো নিয়োগ হয়নি। ফলে কর্মচারী সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর স্বাস্থ্য সেবা। চিকিৎসকরা বলছেন, সহায়ক জনবল ছাড়া সেবা বাড়ানো সম্ভব নয়।

ফেনী দাগনভুঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিধু ভূষণ ভৌমিক বলেন, আমার হাসপাতালে একজন পিয়নও নেই। সুইপার দিয়ে সব কাজ চালাতে হয়। আর ৬ জন স্টাফ দিয়ে কখনও একটি হাসপাতাল চালানো সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফেনীর দাগনভুঞার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মত, কম বেশী সংকটের কথা এখন জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মুখে মুখে। আর কর্মচারী সংকটের কারণে দাগনভুঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। রোগীদের চিৎকার চেঁচামেচি আর ঘেরাও এর মধ্যে চলে চিকিৎসকের পরামর্শ। ওয়ার্ড মানেই দম বন্ধের এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। অনেক সময় বাধ্য হয়ে রোগী ও চিকিৎসকদের পয়সায় মাঝে মাঝে চলে পরিষ্কারের ব্যর্থ চেষ্টা।

রোগীরা অভিযোগ করে জানায়, “যতটা অসুস্থ হয়ে এখানে ভর্তি হই। তার থেকে আরো অসুস্থ হয়ে যাই এখানকার পরিবেশ থেকে।”

কর্মচারী সংকটের কারণে কম বেশি একই চিত্র জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব মতে, তৃতীয় শ্রেণির ৪৭৯টির মধ্যে ১৩০টি ও চতুর্থ শ্রেণির ১৪৬টির মধ্যে ৬৫টি পদ শূন্য।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, ফেনীর সভাপতি ডা. সাহেদুল ইসলাম ভুঞাঁ কাওসার জানান, সহায়ক জনবল সংকটের কারণে তারা সেবা দিতে পারছেন না।

এদিকে নিয়োগ না হওয়ার জন্য ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্যদের দুষে আশার বাণী শোনালেন স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির এই সদস্য।

ফেনী-২ সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, গত সংসদে যারা সংসদ সদস্যে নির্বাচিত হয়েছিল তারা এসব দেখেনি। এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা এর সমাধান করবো বলে জানান তিনি।

ফেনীর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সব শেষ নিয়োগ হয়েছিল ২০০৩ সালে।

Sharing is caring!