একরাম হত্যা

নাজমুল হক শামীম, ২৬ অক্টোবর–>>

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যার ঘটনায় মামলার মূলনথি হাইকোর্টে থাকায় চার্জশীট আমলে নেয়নি আদালত। আগামী ১২ নভেম্বর চার্জশীটের উপর পরবর্তী শুনানির দিন ধায্য করেছে আদালত। ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এ আদেশ দেন। একরাম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ গত আগষ্ট ২৮ আদালতে মামলার চার্জশীট (অভিযোগ পত্র) দাখিল করে। এ নিয়ে আদালত তৃতীয় বারের মতো চাজশীর্টের শুনানির উপর সময় নির্ধারণ করলো।
এদিকে এ মামলায় গ্রেফতার ৩০ জন আসামীর রোববার নিয়মিত হাজিরার ধার্যকৃত দিনে ২৯ জন আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। একাধিক আসামীদের আইনজীবিরা আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা না মঞ্জুর করে সকলকে পূনরায় জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। সেই সাথে আদালত আসামীদের আগামী ১২ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, গত আগষ্ট ২৮ আদালতে একরাম হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দাখিল করলেও মামলার মুলনথি উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) থাকায় অভিযোগ পত্রের উপর শুনানি না করে আগামী ১২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এ মামলার গ্রেফতার ৩০ আসামীর মধ্যে নিয়মিত হাজিরার দিন রোববার ২৯ জন আসামীকে আদালতে হাজির করলেও চার্জশীটভূক্ত প্রধান আসামী বিএনপির নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনার গ্রেফতার অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো জানান, একরাম হত্যায় পুলিশ ও র‌্যাব ৩০ জনকে (২৬ অক্টোবর পর্যন্ত) গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ হোসেন চৌধুরী, ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলু, ফেনী-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো ভাই ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম আবিদসহ ১৬ জন আসামী হত্যার দ্বায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার সাথে জড়িত জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির আদেল, যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিষ্টারসহ পলাতক ২৬ আসামীকে গ্রেফতার চেষ্টা চালাচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মে ফেনীর একাডেমি এলাকার বিলাসী সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হককে প্রকাশ্যে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়ীসহ পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর নিহতের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদি হয়ে মাহাতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনকে আসামী করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।

Sharing is caring!